Subscribe in a reader GAN KOBITA NATOK

Thursday, 7 July 2016

পাখি PAAKHI

দুয়োরাণী যখন কঠিন জ্বরে শয্যাশায়ী
তখন মান রাখতে রাজা বৈদ্য ডাকলেন, 
ওষুধ আনালেন, পথ্যি যোগালেন, 
কিন্তু রাণী দিনে দিনে শয্যার সঙ্গে মিশে যেতে লাগলেন।

বদ্যি এসে বললেন,' এবার বোধহয় সময় এসে গেছে,
দরজা জানালা গুলো খুলে দাও '

সুয়োরানী নাক সিঁটকে বললেন,
'এঃঁ ! এত সহজে যেন মরবে!'

      দিন যায়...

একদিন একটি অচেনা রঙিন পাখি
জানালায় এসে বসে চমৎকার শিস দিতে লাগল।

সে ডাক সকালে ঘুম ভাঙাবার, রাত্রে ঘুম পাড়াবার।

রানীর অচেতন মনে কে যেন বলতে থাকল,
'তোমায় রাজা ছেড়েছেন, প্রাসাদ ছেড়েছে,
আরাম ছেড়েছে, সম্পদ ছেড়েছে,
কিন্তু মনে রেখো, একজন সবসময়
তোমার জন্য আছে।'

দিনে দিনে রাণী চোখ মেলে চাইলেন।

একদিন রাণী সুস্থ হয়ে শয্যা ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন।
উঠে তিনি পাখিটাকে তন্ন তন্ন করে খুঁজে বেড়ান
কিন্তু কোথাও খুঁজে পান না তাকে আর।

শুধু পাখির গাওয়া গানগুলি রাণীর বাকি জীবনের
পরম সম্পদ হয়ে রইল।

গজমোতি GAWJOMOTI


গজমোতি

চাঁদ থেকে নামতে নামতে ভেঙে গেলাম
পাহাড় থেকে নামতে নামতে টুকরো হলাম
সাগর ঢেউয়ে আছাড় খেয়ে খণ্ড হয়ে 
তোমার পায়ে লুটিয়ে পড়লাম।

তুমি হেসে আমার ভাঙা দেহে হাত বুলিয়ে
মুক্তো গেঁথে গলায় পরে নিলে
আমি হলাম তোমার গলায় 
   গজমোতির মালা।
তোমার গলার শোভা দেখে সবাই বলে
'কোথায় পেলে এমন চমৎকার?'
তুমি শুধু ঈষৎ হাসো, আর
তোমার গলায় ঝলমলিয়ে ওঠে
গজমোতির হার।

Wednesday, 6 July 2016

বেখবর BEKHOBOR

বেখবর 

সকাল থেকে রাত্রি, দুপুর থেকে সাঁঝ
ফোন মেলেনা, মেলেনা ইমেল,
বাজেনা কলিং - বেল।

ডাকবাক্সের চাবিটা তো 
হারিয়ে গেছে কবেই 
ওতে আর আসে না কোনো চিঠি।

তবুও রোজ জানলা খুলে মিথ্যে দুরাশাতে
খুঁজি কোনো পাখির ঠোঁটে সবুজ গাছের পাতা,
অথবা ঠিকানা-লেখা কোনো পালক

দিন যায়, আসে রাত,
রোদ ওঠে, ওঠে ঝড়,---------
মেলেনা,মেলেনা কোনো খবর।

Tuesday, 5 July 2016

দয়াল DOYAL

দয়াল DOYAL

হাতে তোমার মোহনবাঁশী, তবুও কেন বেসুর বাজাও?
দেখিয়ে মুখ রূপতরাসী কেন তুমি আমায় ডরাও?
এই সাগরের অকূল পাথার, কান্ডারী তো তুমিই ছিলে
হাসির ছলে খেলতে এসে নৌকা কেন ডুবিয়ে দিলে?

ভিজল আমার বসন-ভূষণ, চোখের কাজল গেল ধুয়ে,
সব হারিয়ে জীবনটুকু তোমার পায়েই পড়ল নুয়ে।
তুমি কি তাও হাসছ আজো,আমার এমন দশা দেখে?
যা করবে তাই করো,তবু তোমার পায়েই দিয়ো রেখে।

Monday, 4 July 2016

রঙীন RONGEEN

তোমার কাপড় তো সাদাই ছিল 
     এখন তাতে কত রকম রঙ! 
কোথাও নীল, কোথাও লাল,
      কোথাও সবুজ, কমলা, বেগুনী-----
সাতটি রঙের সমাহারে উজ্জ্বল।
      এত রঙ পেলে কোথায় তুমি?


ও রঙীন, তোমার থেকে একখানি রঙ 
        তাহলে আমায় দাও,
সেই রঙে ছুপিয়ে নিই ওড়না আমার-------[


যাতে তুমি যখন সমস্ত রঙ হরণ করে
       কালোরূপে লুকিয়ে পড়বে অন্তরালে,
তখন যেন ঐ ওড়নার রঙটুকুই

আমার সম্বল হয়ে আমার চোখের সামনে ভাসে।

প্রেমপত্র PREMPOTRO

প্রেমপত্র PREMPOTRO

এক সকালে ক্লাসরুমের ব্ল্যাকবোর্ডে তোমায়
 লিখেছিলাম যে নিবেদিত প্রেমপত্র,  তা আজ ফেরত নিতে চাই।
আরও ফিরে চাই যা কিছু ছেলেমানুষি তোমায় ঘিরে----
সহেলিদের হাসি আমোদের পাত্রী হয়ে 
তোমাকে দিলাম আমার নিরানন্দ জীবন
তুমি ফোটালে তার একটি একটি  দল
আবার হাসলাম আমিও রোদেলা আকাশ নীলে
তখন কে জানত সে প্রেম- আখরগুলি 
মুছে যাবে একলা ধুলোয় মিশে? 
আজ আমি চাঁদেলা-রাতে একা তারা 
চাঁদ কোথা গেলে আমাকে একেলা ফেলে?
সকালের সেই ক্লাসরুম চাবি দিয়ে 
অনন্তদা চলে গেছে দেশে তার নাকি মায়ের অসুখ
তুমিও বিদেশে পেতেছ সুখ-সংসার
এবার তাহলে যে প্রেমপত্র তোমাকে না -লেখা যত
সব মুছে যাক, আমিও ফিরে যাই 
না-চাঁদ, না-তারার পথ ধরে------

Friday, 1 July 2016

অনিশ্চিত AWNISCHIT

সুখ ছিঁড়ে ছিঁড়ে অন্ধকারের আলোয় মালা গাঁথা
কোথায় খুঁজে পাও এতো কথায় কথায় দুঃখের গাছ?
শেকড় মাটির বুকে আঁকে
না দেখা স্বপ্নের রোজনামচা।
ব্ল্যাকবোর্ডের সব লেখা 
একদিন মুছে যাবে তাও জানি
ব্যাকসীটে বসে যে দম্পতি 
অনাগত মুখের স্বপ্ন দেখে
অতলে মিশে যায় সেই ফুল
চোখ সেই রোদচশমায় ঢাকা
কি নাম দেবে সেই জলপরীর
যাকে এখনো নাম ধরে ডাকোইনি?