Subscribe in a reader GAN KOBITA NATOK

Friday, 11 March 2016

প্রেমাগুন PREMAGUN

প্রেমাগুন

           পোড়া সিগারেট নেভালেও নেভেনা----- 

আহা, যদি আগুন লাগে তো লাগুক! 
এই নিয়ে দ্বিতীয়বার, কি তৃতীয়বার 
আমি কি তাতেও পুড়বো ? 
আমি তো আগেই প্রেমাগুনে পোড়া ! 

তাই ছাইদানিতে ধোঁয়ায় - ধোঁয়া, চায়ের কাপে তুফান, ---- 
আদতে বাসা তো হোগলা কিম্বা গালা, 
তাতে আবার বেতের সোফা, তৈরি জতুগৃহ, 
ঘর পুড়ে যাক্, পুড়তেই থাক্, 
আমি ম’লে পোড়াস্ নে তোরা। 

আগুন ধরল সীঁথিতে সেদিন, কুশণ্ডিকার ভোরে, 
ফুলশয্যার খাটে, 
যেদিন আফোটা কুঁড়িকে বিসর্জন দিলাম, 
সেদিন মন কি পুড়ল  প্রথমবার? 

এখন জতুগৃহ বাদানুবাদে লেলিহান, 
প্রেমাগুন- শিখাগ্রাসে বছর - বছর  
তবুও মরিনি তুমি- আমি। 
এবার কি পুড়বো? জানিনা তোমার কথা। 
আমি তো আগেই প্রেমাগুনে পোড়া।

সত্যি কথা SOTTI KAWTHA

সত্যি কথা

তুমি আমায় ভুলে গেলে আমি কেঁদে মরেই যাবো--- 


কে বলেছে এটা তোমায়? 

ভোরের আলোয় তোমার শরীর চকচকে নতুন-কেনা থালার মতো ---- 
এটাই বা তোমায় বলেছে কে? 
তোমার শিশির আমার বাগানে সুগন্ধী , রঙীন ফুল ফোটায় 
ভুলেও তুমি ভেবো না তা। 
সকাল-বিকেল আয়না দেখে সাজি আমি তোমার তরে--- 
এটাও তোমার ভুল ধারণা। 
আসল কথাটা যে কী আমিও তো ছাই জানিনা তা 
তুমিও নিজে জান কি না সন্দেহ ঢের আছে তাতে---- 
তুমি আমার,আমি তোমার,এসব নিছক কাব্যকথা 
জীবনের এই সত্যটুকু রয়েই গেল অজানাতে

জীবন-বাজি JEEBON-BAAJI

জীবন-বাজি

থাক্ না ওরা ওদের মতো, 
নদী-ঝিলমিল্, সমুদ্র-নীল, 
সিন্ধুসারস, শঙ্খচীলের ভিড়ে --- 
আমার জন্য থাক্ এ-পথের 
নুড়ি-পাথর, রথের চাকার 
বৃংহতি-ডাক, ভোরের আকাশ চিরে। 

যাচ্ছি একা কাজের ঠেলায় 
নিঠুর রোদের সকাল-বেলায় 
বস্তা-কাঁধে, কঠিন জীবন বেয়ে ------ 
যন্ত্র-দানব, দন্তী-শ্বাপদ 
বিকট-গতি, সঙ্গে চলে ধেয়ে। 

দিচ্ছি না তো ভাগ্যকে দোষ 
এটাই জীবন, এ-ও সন্তোষ, 
খেলার ছলে জীবন-বাজি ধরে, 

ফিরব কখন কেউ জানেনা 
বাসায় আবার, নেই ঠিকানা 
থামব কোথায়, কোন্ অজানার ঘরে।।

মোতি MOTI

মোতি


গলার মুক্তাহার ছিঁড়ে, 

মুক্তাগুলি ছড়িয়ে পড়ল 

সারাটা পথ জুড়ে। 

সবাই ছুটে এলো, কুড়িয়ে নিয়ে গেলো--- 
তা দিয়ে কেউ বানালো দুল, কেউ বানালো আংটি, 
আর সবাই তাদের গয়না 
মুক্তা গেঁথে সাজিয়ে নিলো। 

শুধু একটি মেয়ে সবার শেষে 
যা পেলো তাই কুড়িয়ে নিয়ে 
ঘরে গিয়ে গাঁথলো জপের মালা। 

সেই মালাতে একেকটি মোতি 
জপত সে রোজ কারো অপেক্ষায়। 

যারা গয়নাগাঁটি পরে উৎসবে গা ভাসায় 
তারা জানবে কেমন করে 
আরেকটি মেয়ে নির্জন তার ঘরে   
দিবারাত্রি জপে চলেছে কারো নাম 
ঐ মালাটির একেকটি মোতি গুণে।

ভাণ্ডার BHANDAR

ভাণ্ডার


মায়ের ঘরে একটা সিন্দুক ছিল 

তার ভিতর কী ছিল আজো জানিনা। 

মনে  ছিল মায়ের মুখে শোনা 

হাজার হাজার রূপকথা। 

আমি সেই রূপকথার হিরেমানিক 

লুকিয়ে রেখেছিলাম আমার একলা বুকে---- 
আরেক সিন্দুকে। 

কোনোদিনও খুলিনি সেই সুখের ঘর---- 
রূপ বাসা বেঁধেছে যেখানে। 

আয়নাতে একজোড়া চোখের ইসারা 
খুঁজে ফেরে কোথায় ফেলে গেছে চাবি । 
লুকোনো কোণগুলো প্রদীপ জ্বালিয়ে খুঁজি --- 
খুঁজেই চলেছি আজো -----

আজও পেলাম না তার সন্ধান । 

যন্ত্র JONTRO

যন্ত্র


'চ্যাং-মাছে বলে, মাঝিভাই, আমাকে না মারিও' 
খলসে-পুঁটি কথা কয়না, 
দিনে-দিনে ঝাঁকের কই 
ঐ নদীতে আর বয়না ------ 
মাছ বাড়ন্ত জলে, ঘর বাড়ন্ত চালে, 


'লক্ষ্ণী যখন আসবে' 

তখন পদ্মও আর ফুটবেনা 
শাপলা-শালুক, পানার ফুল 
রঙ মুছে আজ বিধবা-সাজ,---- 



ওগো মানুষ, জীবন বাঁচাও 

যন্ত্র নিয়ে আর খেলোনা! 


শিশু বাঁচুক,বন্য বাঁচুক 

পৃথিবী হোক মাতৃক্রোড় 
সাহারা হোক সবুজ আবার, 
নদীরা হোক মৌ-পারাবার 
পান্থপাদপ তৃষ্ণা মেটাক 
শ্রান্ত মরু-পথিকদের! 



ওগো মানুষ, ওগো মানব 

হৃদয়টাকে পাষাণ-গলাও 
নতুন করে নীড় বেঁধে দাও 
আনন্দহীন পতত্রীর!


পোড়াভাগ্য PODA BHAGYO

পোড়াভাগ্য


মাথা খাও, আর দুটি খাও, 


ওকি, মাছের মুড়োটা যে পাতেই ফেলে উঠে গেলে? 

বাজার - দরে ষোল কই শলুইয়ে 

দুটো যদি পালিয়ে যায় তো যাক্। 
ঘর বাঁধুক আড়ালে-আবডলে 
কই মাছের জান মুঠোয় ধরে পৃথিবীতে এসে 
চক্ষু খেয়ে পাতের পানে 
দিনের শেষে কাঁটা-খান খাই, 
আঁশটুকুও ফেলি নাকো। 
আহা যদি নলরাজার মাছের মত জ্যান্ত হয়ে 
জলে ফিরে যায়? 
তাই পোড়াভাগ্যে ভাজা মাছটুকু 
ডীপ-ফ্রিজে জোর করে গুঁজি। 
আকালের দিনে যাতে পাতে পড়ে দু-টুকরো। 
তোমার পাতের পাশে তাই 
ঘরের বউ ঘোমটা টেনে বসি, 
' মাথা খাও, আর দুটি খাও'...।